Skip to main content

হতাশা

তীব্র হতাশাগ্রস্ত হলে মানুষের বিবেক-বুদ্ধি, ভালো-মন্দ বুঝার সক্ষমতা অনেকটা লোপ পায়। কারণে-অকারণে রেগে যায়। মানসিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। জীবনের প্রতি তিক্ততা বেড়ে যায়। জীবনকে উপভোগ করতে পারেনা। জীবনের প্রতি বিরক্তি সৃষ্টি হয়। 
.
হতাশাগ্রস্ত মানুষের মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে যায়। অলস হয়ে পড়ে। আর কথায় আছে, "অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা"! তখন মনে হয়, এখনই যদি মরে যেতাম সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত! 
.
জীবন মুল্যহীন মনে হয়। জীবনের প্রতি তিক্ততার কারণে বেঁচে থাকার ইচ্ছাটা হারিয়ে যায় অন্ধকার গহ্বরে! তখন মুক্তির পথ খুঁজতে থাকে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতঃ আত্মহনন ছাড়া সহজতর কোনো পথ খুঁজে পায়না হতাশাগ্রস্ত মানুষটা।
.
যদিও আত্মহনন কখনোই সমস্যার সমাধান আর মুক্তির পথ না। তবুও হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হারিয়ে ভুল বুঝার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যার ফলে আত্মহননের চেষ্টা করে। 
.
তবে আত্মহননের চেষ্টা করার পর মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্তে সর্বাত্মক চেষ্টা করে বাঁচতে! মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করা কি এতই সহজ? চেষ্টা করেও যখন বেঁচে যাওয়ার পর একসময় নিজের ভুলের কথাটা মনে করে নিজেরই হাসি পায়। 
.
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, আত্মহত্যার প্রবণতা বা চেষ্টা একটি Psychiatric Emergency । যারা আত্মহত্যার কথা বলে তাদের একটি বড় অংশ পরে কোন না কোন কারনে ঠিকই আত্মহত্যার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হয়। এই সুপ্ত মনের ইচ্ছাকে ও কার্যকর প্রচেষ্টাকে মোটেও সহজ ভাবে নেওয়া যাবে না।
.
আত্মহত্যার পিছে লুকিয়ে থাকা ৯৫% শতাংশ কারণ হয়ে থাকে মানসিক ও বাকী ৫% শতাংশ কারণ থাকে শারীরিক কোন আঘাত বা ভিন্ন কোন ঘটনা। এছাড়াও যারা দীর্ঘদিন যাবত কষ্ট ও রোগে শোকে ভুগছেন তারা জীবন থেকে মুক্তি পাবার আশায় আত্মহত্যার মত ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
.
কেউ যদি নিজের জীবন হারাতেই চায়, তবে তাকে বাঁধা দেওয়া বা আটকে রাখা আসলে কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। আপনি চাইলেও কারো উপর সর্বক্ষণ নজর রাখতে পারবেন না । তবে আগে থেকেই যদি আত্মহত্যা করার মানসিকতা সনাক্ত করা সম্ভব তবে কাউন্সিলিং এরম মাধ্যমে সেখান থেকে কাউকে জীবনের পথেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
.
এই কাউন্সিলিং এর কাজটা ব্যক্তির একান্ত আপনজন বিশেষ করে বন্ধুদের দ্বারা সম্ভব হয় সফল হয়। বিশেষ করে বন্ধুদের দ্বারা। কারণ বন্ধুদের সাথেই সবকিছু শেয়ার করা যায়, আর বন্ধুরাই বন্ধুকে একাকিত্ব থেকে মুক্ত করে হতাশা থেকে মুক্ত করতে পারে।
.
তবে খারাপ সময়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুসময়ের বন্ধুরা হারিয়ে যায়। তখন বন্ধুদের অবহেলার শিকার হতে হয়। নিঃসঙ্গতা হতাশা বাড়িয়ে দেয়! 
.
বিভিন্ন কারণে হতাশার সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ ফেমিলির আর্থিক বা অন্য কোনো সমস্যা, লেখাপড়ার খুব বেশি চাপ, প্রেমে ব্যর্থতা! আবার নিঃসঙ্গ ও একাকিত্বের কারণেও হতাশার সৃষ্টি হতে পারে। আপনি চাইলেও সহজে হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। এর জন্য প্রয়োজন কাটিয়ে উঠার মতো পরিবেশ। নিজের বাস্তবিক অভিজ্ঞতা তে এটুকুই উপলব্ধি করতে পেরেছি।

Comments

Popular Posts

নামাযের প্রয়োজনীয় দোয়া ও তাসবীহ সমূহ

জায়নামাযে দাঁড়ানোর দোয়া اِنِّىْ وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلَّذِىْ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ حَنِيْفًا وَّمَا اٰنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ- উচ্চারণ-ইন্নি ওয়াজ্জা...

বই প্রকাশ করতে কেমন খরচ হয়

নিজের টাকায় বই বের না করাই ভালো। এরপরও যারা নিজের টাকায় সম্পূর্ণ বই প্রকাশ করতে চান, তাদের সুবিধার্থে নিচে বই প্রকাশের একটি হিসার দেয়া হলো। অনেক প্রকাশক হয় তো আরো কম মূল্...

হুমায়ুন আহমেদ - এর উক্তি সমূহ

১. পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার হচ্ছে ভালবাসা। ২. ভালোবাসা ও ঘৃনা দুটোই মানুষের চোখে লিখা থাকে। ৩. একজন সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে দেখা ও তাকে অসুন্দর হিসেবে আবিষ্কার করার মধ্যবর্তী স...