Skip to main content

৬৪ জেলার নামকরণের ইতিহাস



বাংলাদেশের টি বিভাগের ৬৪ টি জেলার নামকরণের ইতিহাস সংক্ষেপে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হল

. বরিশাল বিভাগ . চট্টগ্রাম . ঢাকা . খূলনা বিভাগ . রাজশাহী বিভাগ . রংপুর বিভাগ . সিলেট বিভাগ

বরিশাল বিভাগঃ-
বরিশাল বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয ১৯৯৩ সালে বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠী, পটুযাখালি, পিরোজপুর ভোলা এই জেলা নিয বরিশাল বিভাগ গঠিত হয অবশেষে ২০০০ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয

. বরগুনা জেলাঃ-
বরগুনা নামের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও জানা যায় যে, উত্তরাঞ্চলের কাঠ ব্যবসায়ীরা অঞ্চলে কাঠ নিতে এস খরস্রোতা
খাকদোন নদী অতিক্রম করতে গিয়ে অনুকুল প্রবাহ বা বড় গোনের জন্য এখানে অপেক্ষা করত বলে স্থানের নাম হয় বড় গোনাকারো মতে আবার স্রোতের বিপরীতে গুন (দড়ি) টেনে নৌকা অতিক্রম করতে হতো বলে স্থানের নাম বরগুনা কেউ কেউ বলেন, বরগুনা নামক কোন প্রভাবশালী রাখাইন অধিবাসীর নামানুসারে বরগুনা আবার কারো মতে বরগুনা নামক কোন এক বাওয়ালীর নামানুসারে স্থানের নাম করণ করা হয় বরগুনা

. বরিশাল জেলাঃ-
বরিশাল নামকরণ সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে এক কিংবদন্তি থেকে জানা যায় যে, পূর্বে এখানে খুব বড় বড় শাল গাছ জন্মাতো, আর এই বড় শাল গাছের কারণে (বড়+শাল) বরিশাল নামের উৎপত্তি কেউ কেউ দাবি করেন, পর্তুগীজ বেরি শেলির প্রেমকাহিনীর জন্য বরিশাল নামকরণ করা হয়েছে অন্য এক কিংবদন্তি থেকে জানা যায় যে, গিরদে বন্দরে (গ্রেট বন্দর) ঢাকা নবাবদের বড় বড় লবণের গোলা চৌকি ছিল ইংরেজ পর্তুগীজ বণিকরা বড় বড় লবণের চৌকিকে বরিসল্ট বলতো অথাৎ বরি (বড়)+ সল্ট(লবণ)= বরিসল্ট আবার অনেকের ধারণা এখানকার লবণের দানাগুলো বড় বড় ছিল বলে বরিসল্ট বলা হতো পরবর্তিতে বরিসল্ট শব্দটি পরিবর্তিত হয়ে বরিশাল নামে পরিচিতি লাভ করে

. ভোলা জেলাঃ-
ভোলা জেলার নামকরণের পিছনে স্থায়ীভাবে একটি লোককাহিনী প্রচলিত আছে যে, ভোলা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার মত অপ্রশস্ত ছিলনা একসময় এটি পরিচিত ছিল বেতুয়া নদী নামে খেয়া নৌকার সাহায্যে নদীতে পারাপার করা হত বুড়ো এক মাঝি এখানে খেয়া নৌকার সাহায্যে লোকজন পারাপার করতো তাঁর নাম ছিল ভোলা গাজী পাটনী বর্তমানে যোগীরঘোলের কাছেই তাঁর আস্তানা ছিল এই ভোলা গাজীর নামানুসারেই এক সময় স্থানটির নাম দেয়া হয় ভোলা সেই থেকে আজ অব্দী ভোলা নামে পরিচিত

. ঝালকাঠি জেলাঃ-
জেলার নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জেলার জেলে সম্প্রদায়ের ইতিহাস মধ্যযুগ-পরবর্তী সময়ে সন্ধ্যা, সুগন্ধা, ধানসিঁড়ি আর বিষখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় জেলেরা বসতি স্থাপন করে এর প্রাচীন নাম ছিল মহারাজগঞ্জ মহারাজগঞ্জের ভূ-স্বামী শ্রী কৈলাশ চন্দ্র জমিদারি বৈঠক সম্পাদন করতেন এবং পরবর্তীতে তিনি স্থানটিতে এক গঞ্জ বা বাজার নির্মাণ করেন গঞ্জে জেলেরা জালের কাঠি বিক্রি করত জালের কাঠি থেকে পর্যায়ক্রমে ঝালকাঠি নামকরণ করা হয় বলে ধারণা করা হয় জানা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে জেলেরা এখানে মাছ শিকারের জন্য আসত এবং যাযাবরের মতো সুগন্ধা নদীর তীরে বাস করত অঞ্চলের জেলেদের পেশাগত পরিচিতিকে বলা হতো ঝালো এরপর জেলেরা বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে এখানে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলে এভাবেই জেলে থেকে ঝালো এবং জঙ্গল কেটে বসতি গড়ে তোলার কারণে কাটি শব্দের প্রচলন হয়ে ঝালকাটি শব্দের উৎপত্তি হয় পরবর্তীকালে ঝালকাটি রূপান্তরিত হয় ঝালকাঠিতে১৯৮৪ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী ঝালকাঠি পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা লাভ করে

. পটুয়াখালী জেলাঃ-
ঐতিহাসিক ঘটনাবলি থেকে জানা যায যে, পটুয়াখালী চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের অন্তর্ভক্ত ছিল পটুয়াখালী নামকরণের পিছনে প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের লুনটন অত্যাচারের ইতিহাস জড়িত আছে বলে জানা যায় পটুয়াখালী শহরের উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত নদীটি পূর্বে ভরনী খাল নামে পরিচিত ছিল ষোড়শ শতাব্দীর শুরু থেকে পর্তুগীজ জলদস্যুরা এই খালের পথ দিয়ে এস সন্নিহিত এলাকায় নির্বিচারে অত্যাচার হত্যা লুন্ঠন চালাত স্থানীয় লোকেরা এই হানাদারদের নটুয়া বলত এবং তখন থেকে খালটি নটুয়ার খাল নামে ডাকা হয় কথিত আছে, এই নটুয়ার খাল খাল থেকে পরবর্তীতে এলাকার নামকরণ হয় পটুয়াখালী

. পিরোজপুর জেলাঃ-
ফিরোজ শাহের আমল থেকে ভাটির দেশের ফিরোজপুর,
বেনিয়া চক্রের ছোয়াচ লেগে পাল্টে হলো পিরোজপুর

উপরোক্ত কথন থেকে পিরোজপুর নামকরণের একটা সূত্র পাওয়া যায় নাজিরপুর উপজেলার শাখারী কাঠির জনৈক হেলাল উদ্দীন মোঘল নিজেকে মোঘল বংশের শেয় বংশধর হিসেবে দাবি করেছিলেন বলে জানা যায় বাংলার সুবেদার শাহ।। সুজা আওরঙ্গজেবের সেনাপতি মীর জুমলার নিকট পরাজিত হয়ে বাংলার দক্ষিণ অঞ্চলে এসে আত্মগোপন করেন এক পর্যায়ে নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীর পাড়ে একটি কেল্লা তৈরি করে কিছুকাল অবস্থান করেন মীর জুমলার বাহিনী এখানেও হানা দেয়, শাহ সুজা তাঁর দুই কন্যাসহ আরাকান রাজ্যে পালিয়ে যান সেখানে তিনি অপর এক রাজার চক্রান্তে নিহত হন পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী এক শিশুপ্রত্র রেখে যান পরবর্তীতে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে পশ্চিমে চলে আসে এবং বর্তমান পিরোজপুরের পাশ্ববর্তী দামোদর নদীর মুখে আস্তানা তৈরি করেন শিশুর নাম ছিল ফিরোজ এবং তাঁর নামানুসারে হয় ফিরোজপুর কালের বিবর্তনে ফিরোজপুরের নাম হয় পিরোজপুর পিরোজপুর ১৯৫৯ সালের ২৮ অক্টোবর পিরোজপুর মহকুমা এবং পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে জেলার রূপান্তরিত হয়

চট্টগ্রাম বিভাগঃ-

. বান্দরবন জেলাঃ-
বান্দরবন জেলার নামকরণ নিয়ে একটি কিংবদন্তি আছে, এলাকার বাসিন্দাদের মুখে প্রচলিত রূপকথায় অত্র এলাকায় সময় অসংখ্য বানর বাস করত আর বানরগুলো শহরের প্রবেশ মুখে ছড়ার পাড়ে প্রতিনিয়ত লবণ খেতে আসত এক সময় অতি বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেলে বানরের দল ছড়া পাড় থেকে পাহাড়ে যেতে না পারায় একে অপরকে ধরে সারিবদ্ধভাবে ছড়া পার হয় বানরের ছড়া পারাপারের এই র্দশ্য ধেকতে পায় এই জনপদের মানুষ এই সময় থেকে জায়গাটি ম্যাঅকছি ছড়া হিসেবে পরিচিতি লাভ করে মার্মা ভাষায় ম্যাঅক শব্দটির অর্থ হল বানর আর ছিঃ শব্দটির অর্থ হল বাধঁ কালের প্রবাহে বাংল ভাষাভাষির সাধারণ উচ্চারণে এই এলাকার নাম বান্দরবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে তবে মার্মা ভাষায় বান্দরবনের প্রকৃত নাম রদ ক্যওচি চিম্রো

. ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলাঃ-
১৯৮৪ সালে ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তার আগে এটি কুমিল্লা জেলার একটি মহকুমা ছিল ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাইনি, আপনাদের জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন

. চাঁদপুর জেলাঃ-
১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ জরিপকারী মেজর জেমস রেনেল তৎকালনি বাংলার যে মানচিত্র অংকন করেছিলেন তাতে চাঁদপুর নামে এক অখ্যাত জনপদ ছিল তখন চাঁদপুরের দক্ষিণে নরসিংহপুর নামক ( বর্তমানে যা নদীগর্ভে বিলীন) স্থানে চাঁদপুরের অফিস-আদালত ছিল পদ্মা মেঘনার সঙ্গমস্থল ছিল বতৃমান স্থান থেকে পাওয়া প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে মেঘনা নদীর ভাঙ্গাগড়ার খেলায় এলাকা বর্তমানে বিলীন বার ভূঁইয়াদের আমলে চাঁদপুর অঞ্চল বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের দখলে ছিল ঐতিহাসিক জে.এম সেনগুপ্তের মতে চাঁদরায়ের নামানুসারে অঞ্চলের নাম চাঁদপুর কথিত আছে চাঁপুরের (কোড়ালিয়া) পুরিন্দপুর মহল্লার চাঁদ ফকিরের নামানুসারে অঞ্চলের নাম চাঁদপুর কারো কারো মতে, শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন প্রশাষক দিল্লী থেকে পঞ্চদশ শতকে এখানে এসে একটি নদী বন্দর স্থাপন করেছিলেন তাঁর নামানুসারে চাঁদপুর ১৮৭৮ সালে প্রথম চাঁদপুর মহকুমার সৃষ্টি হয় ১৮৯৬ সালের অক্টোবর চাঁদপুর শহরকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয় ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী চাঁদপুর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে

. চট্টগ্রাম জেলাঃ-
চট্টগ্রামের প্রায় ৪৮ টি নামের খোঁজ পাওয়া যায় এর মধ্যে রম্যভূমি, চাটিগাঁ, চাতগাও, রোসাং, চিতাগঞ্জ, জাটিগ্রাম ইত্যাদি চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে, পন্ডিত বার্নোলির মতে, আরবি শ্যাত (খন্ড) অর্থ বদ্বীপ, গাঙ্গ অর্থ গঙ্গা নদী থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি অপর এক মতে ত্রয়োদশ শতকে অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে এসেছিলেন বার জন আউলিয়া তাঁরা একটি বড় বাতি বা চেরাগ জ্বালিয়ে উঁচু জায়গায় স্থাপন করেছিলেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় চাটি অর্থ বাতি বা চেরাগ ্এবং গাঁও অর্থ গ্রাম থেকে নাম হয় চাটিগাঁও এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার উইলিয়াম জোন্সের মতে, এলাকার একটি ক্ষুদ্র পাখির নাম থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম মোঘল সম্রাজের অংশ হয় আরাকানদের পরাজিত করে মোঘল এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে মীর কাশিম আলী খান ইসলামাবাদকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করেন পরে কোম্পানি এর নাম রাখেন চিটাগাং

. কুমিল্লা জেলাঃ-
প্রাচীনকালে এটি সমতট জনপদের অন্তর্গত ছিল এবং পরবর্তীতে এটি ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ হয় কুমিল্লা নামকরণের অনেকগুলো প্রচলিত লোককথা আছে, যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য চৈনিক পরিব্রাজক ওয়াং চোয়াং কর্তৃক সমতট রাজ্য পরিভ্রমণের বৃত্তান্ত তাঁর বর্ণনায় কিয়া-মল-ঙ্কিয়া
( Kiamolonkia)
নামক স্থানের বর্ণনা রয়েছে তা থেকে কমলাঙ্ক বা কুমিল্লার নামকরণ হয়েছে ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে

. কক্সবাজার জেলাঃ-
আরব ব্যবসয়ী ধর্ম প্রচারকগণ ৮ম শতকে চট্টগ্রাম আকিব বন্দরে আগমন করেন এই দুই বন্দরের মধ্যবর্তী হওয়ায় কক্সবাজার এলাকা আরবদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসে নবম শতাব্দীতে কক্সবাজার সহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম হরিকেলার রাজা কান্তিদেব দ্বারা শাসিত হয় ৯৩০ খ্রিস্টাব্দে আরাকান রাজা সুলাত ইঙ্গ চট্টগ্রাম দখল করে নেবার পর থেকে কক্সবাজার আরাকান রাজ্যের অংশ হয় ১৭৮৪ সালে রার্মারাজ বোধাপায়া আরাকান দখল করে নেয় ১৭৯৯ সালে বার্মারাজের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রায় ১৩ হাজার আরাকনি কক্সবাজার থেকে পালিয়ে যায় এদর পূনর্বাসন করার জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি একজন হিরাম কক্সকে নিয়োগ করে পূনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হবার পূর্বেই হিরাম কক্স মৃত্যু বরণ করেন পূনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদানের জন্য কক্স-বাজার নামক একটি বাজার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই কক্স-বাজার থেকে কক্সবাজার নামের উৎপত্তি

. ফেনী জেলাঃ-
ফেনী নদীর নাম অনুসারে অঞ্চলের নাম রাখা হয় ফেনী মধ্যযুগে কবি সাহিত্যিকদের কবিতা সাহিত্যে একটি বিশেষ নদীর স্রোদধা ফেনী পরাপারের ঘাট হিসেবে আমরা ফনী শব্দটি পাই ষোড়শ শতাব্দীতে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর পরাগলপুরের বর্ণনায় লিখেছেন, ফনী নদীতে বেষ্টিত চারিধার, পূর্বে মহাগিরি পার পাই তার সতের শতকে মির্জা নাথানের ফার্সী ভাষায় রচিত বাহরিস্থান--গায়েরীতে ফনী শব্দ ফেনীতে পরিণত হয় আটারো শতকের ষেষ ভাগে কবি আলী রেজা প্রকাশ কানু ফকির তাঁর পীরের বসতি হাজীগাঁওয়ের অবস্থান সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন, ফেনীর দক্ষিণে এক বর উপাম, হাজীগাঁও করিছিল সেই দেশের নাম মোহাম্মদ মুকিম তাঁর পৈতৃক বসতির বর্ণনাকালে বলেছেন,ফেনীর পশ্চিমভঅগে জুগিদিয়া দেশ……………. বলাবাহুল্য তাঁরাও নদী অর্থে ফেনী শব্দ ব্যবহার করেছেন মুসলমান কবি-সাহিত্যিকদের ভাষায় আদি শব্দ ফনী ফেনীতে পরিণত হয়েছে

. খাগড়াছড়ি জেলাঃ-
খাগড়াছড়ি একটি নদীর নাম নদীর পাড়ে খাগড়া বন থাকায় খাগড়াছড়ি নামে পরিচিতি লাভ করে

. লক্ষীপুর জেলাঃ-
লক্ষীপুর জেলার নামকরণের সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাইনি, আপনাদের জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন

১০. নোয়াখালী জেলাঃ-
নোয়াখালী জেলা প্রচীন নাম ছিল ভুলুয়া নোয়াখালী সদর থানার আদি নাম ছিল সুধারাম ইতিহাসবিদদের মতে, একবার ত্রিপুরার পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর পানিতে ভুলুয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহভঅবে প্লাবিত হয়ে ফসলি জমির ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি করে অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে ১৬৬০ সালে একটি বিশাল খাল খনন করা হয়, যা পানি প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্ঝ, সোইমুড়ী চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে এই বিশাল খালকে নোয়াখালীর ভাষায় নোয়া (নুতুন) খাল বলা হত এর ফলে ভুলুয়া নামটি পরিবর্তিত হয়ে ১৬৬৮ সালে নোয়াখালী নামে পরিচিতি লাভ করে

১১. রাঙ্গামাটি জেলাঃ-
রাঙামাটি জেলা নামকরণ সম্পর্কে বিলু কবীরের লেখা বাংলাদেশ জেলা : নামকরণের ইতিহাস বই থেকে জানা যায় তা হলো- এই এলাকায় পর্বতরাজি গঠিত হয়েছিল টারশিয়রি যুগে এই যুগের মাটির প্রধান ব্যতিক্রম এবং বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর রঙ লালচে বা রাঙা এই এলাকার গিরিমৃত্তিকা লাল এবং মাটিও রাঙা বলেই এই জনপদের নাম হয়েছে রাঙামাটি প্রকৃতি সূচক এই নামকরণটির বিষয়ে অন্য প্রচলিত কথাপরম্পরা হলো- বর্তমান রাঙামাটি জেলা সদরের পূর্বদিকে একটি ছড়া ছিল, যা এখন হ্রদের মধ্যে নিমজ্জিত এই হ্রদের স্বচ্ছ পানি যখন লাল বা রাঙামাটির উপর দিয়ে ঢাল বেয়ে প্রপাত ঘটাতো, তখন তাকে লাল দেখাতো তাই এই ছড়ার নাম হয়েছিল রাঙামাটি এই জেলা সদরের পশ্চিমে আরও একটি ছাড়া ছিল অনুরূপ কারণে তার নাম দেয়া হয়েছিল রাঙাপানি এই দুই রাঙা ছড়ার মোহনার বাঁকেই গড়ে উঠেছে বর্তমান জেলা শহর যা মূলত ছিল অনাবাদী টিলার সমষ্টি এবং বহু উপত্যকার এক নয়নাভিরাম বিস্ময়ভূমি এই দুটি ছড়া রাঙামাটি রাঙাপানি হতে রাঙামাটি জেলার নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয় ১৯৮৩ সালে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা গঠন করা হয়

ঢাকা বিভাগঃ-

. ঢাকা জেলাঃ-
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল যুগে ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানা যায় না সম্পর্কে প্রচলিত মতগুলোর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপঃ ) একসময় অঞ্চলে প্রচুর ঢাক গাছ (বুটি ফুডোসা) ছিল; ) রাজধানী উদ্বোধনের দিনে ইসলাম খানের নির্দেশে এখানে ঢাক অর্থাৎ ড্রাম বাজানো হয়েছিল; ) ঢাকাভাষা নামে একটি প্রাকৃত ভাষা এখানে প্রচলিত ছিল; ) রাজতরঙ্গিণী-তে ঢাক্কা শব্দটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে অথবা এলাহাবাদ শিলালিপিতে উল্লেখিত সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ডবাকই হলো ঢাকা
কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার বিগ্রহ খুঁজে পান দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাই রাজা মন্দিরের নাম ঢাকেশ্বরী মন্দির মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠেআবার অনেক ঐতিহাসিকদের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ শহরে ঢাক বাজানোর নির্দেশ দেন এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্দির রূপ ধারণ করে এবং তা থেকেই এই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায় এখানে উল্লেখ্য যে, ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর

. ফরিদপুর জেলাঃ-
ফরিদপুরের নামকরণ করা হয়েছে এখানকার প্রখ্যাত সুফী সাধক শাহ শেখ ফরিদুদ্দিনের নামানুসারে

. গাজীপুর জেলাঃ-
বিলু কবীরের লেখা বাংলাদেশের জেলা : নামকরণের ইতিহাস বই থেকে জানা যায়, মহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনকালে জনৈক মুসলিম কুস্তিগির গাজী অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন এবং তিনি বহুদিন সাফল্যের সঙ্গে অঞ্চল শাসন করেছিলেন কুস্তিগির/পাহলোয়ান গাজীর নামানুসারেই অঞ্চলের নাম রাখা হয় গাজীপুর বলে লোকশ্রুতি রয়েছে আরেকটি জনশ্রুতি রকম সম্রাট আকবরের সময় চবি্বশ পরগনার জায়গিরদার ছিলেন ঈশা খাঁ এই ঈশা খাঁরই একজন অনুসারীর ছেলের নাম ছিল ফজল গাজী যিনি ছিলেন ভাওয়াল রাজ্যের প্রথম প্রধান তারই নাম বা নামের সঙ্গে যুক্ত গাজী পদবি থেকে অঞ্চলের নাম রাখা হয় গাজীপুর গাজীপুর নামের আগে অঞ্চলের নাম ছিল জয়দেবপুর জয়দেবপুর নামটি কেন হলো, কতদিন থাকল, কখন, কেন সেটা আর থাকল না সেটিও প্রাসঙ্গিক জ্ঞাতব্য ভাওয়ালের জমিদার ছিলেন জয়দেব নারায়ণ রায় চৌধুরী বসবাস করার জন্য জয়দেব নারায়ণ রায় চৌধুরী পীরাবাড়ি গ্রামে একটি গৃহ নির্মাণ করেছিলেন গ্রামটি ছিল চিলাই নদীর দক্ষিণ পাড়ে সময় ওই জমিদার নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে অঞ্চলটির নাম রাখেন জয়দেবপুর এবং নামই বহাল ছিল মহকুমা হওয়ার আগ পর্যন্ত যখন জয়দেবপুরকে মহকুমায় উন্নত করা হয়, তখনই এর নাম পাল্টে জয়দেবপুর রাখা হয় উল্লেখ্য, এখনো অতীতকাতর-ঐতিহ্যমুখী স্থানীয়দের অনেকেই জেলাকে জয়দেবপুর বলেই উল্লেখ করে থাকেন গাজীপুর সদরের রেলওয়ে স্টেশনের নাম এখনো জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন তবে বিস্তারিত আলোচনায় গেলে বলতেই হয়, গাজীপুরের আগের নাম জয়দেবপুর এবং তারও আগের নাম ভাওয়াল গাজীপুরকে ১৯৮৪খ্রিস্টাব্দের মার্চ জেলা এবং ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারী রোজ: সোমবার সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করা হয়

. গোপালগঞ্জ জেলাঃ-
গোপালগঞ্জ জেলা শহরের রয়েছে প্রাচীন ইতিহাস অতীতের রাজগঞ্জ বাজার আজকের জেলা শহর গোপালগঞ্জ আজ থেকে প্রায় শতাব্দীকাল পূর্বে শহর বলতে যা বুঝায় তার কিছুই এখানে ছিলোনা এর পরিচিতি ছিলো শুধু একটি ছোট্ট বাজার হিসেবে এঅঞ্চলটি মাকিমপুর ষ্টেটের জমিদার রানী রাসমণির এলাকাধীন ছিলো উল্লেখ্য রানী রাসমণি একজন জেলের মেয়ে ছিলেন সিপাই মিউটিনির সময় তিনি একজন উচ্চ পদস্থ ইংরেজ সাহেবের প্রাণ রক্ষা করেন পরবর্তীতে তারই পুরস্কার হিসাবে বৃটিশ সরকার রাসমণিরকে মাকিমপুর ষ্টেটের জমিদারী প্রদার করেন এবং তাঁকে রানী উপাধিতে ভূষিত করেন রানী রাসমণির এক নাতির নাম ছিলো নব-গোপাল তিনি তাঁর স্নেহাস্পদ নাতির নাম এবং পুরানো ইতিহাসকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নাতিন নামের গোপাল অংশটি প্রথমে রেখে তার সাথে রাজগঞ্জের গঞ্জ যোগ করে জাযগাটির নতুর নামকরণ করেন গোপালগঞ্জ ১৯৮৪ সালে ফরিদপুর জেলার মহকুমা থেকে গোপালগঞ্জ জেলা সৃষ্টি হয

. জামালপুর জেলাঃ-
সাধক দরবেশ হযরত শাহ জামাল () এর পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত গরো পাহাড়ের পাদদেশে যমুনা-ব্রক্ষ্মপুত্র বিধৌত বাংলাদেশের ২০-তম জেলা জামালপুর হযরত শাহ জামাল () এর নামানুসারে জামালপুরের নামকরণ হয়

. কিশোরগঞ্জ জেলাঃ-১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে কিশোরগঞ্জ মহকুমার জন্ম হয় মহকুমার প্রথম প্রশাসক ছিলেন মিঃ বকসেল বর্তমান কিশোরগঞ্জ তৎকালীন জোয়ার হোসেনপুর পরগনার অন্তর্ভক্ত ছিল অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকেও কিশোরগঞ্জ এলাকা কাটখালী নামে পরিচিত ছিল ইতিহাসবিদদের ধারণা জনশ্রুতি মতে জেলার জমিদার ব্রজকিশোর মতান্তরে নন্দকিশোর প্রামানিকের কিশোর এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাট বা গঞ্জের গঞ্জ যোগ করে কিশোরগঞ্জ নামকরণ করা হয়

. মাদারীপুর জেলাঃ-
মাদারীপুর জেলা একটি ঐতিহাসিক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল পঞ্চদশ শতাব্দীতে সাধক হযরত বদরুদ্দিন শাহ মাদার () এর নামানুসারে এই জেলার নামকরণ করা হয় প্রাচীনকালে মাদারীপুরের নাম ছিল ইদিলপুর ১৯৮৪ সালে মাদারীপুর জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে

. মানিকগঞ্জ জেলাঃ-
মূরত সংস্কৃত মানিক্য শব্দ থেকে মানিক শব্দটি এসেছে মানিক হচ্ছে চুনি পদ্মরাগ গঞ্জ শব্দটি ফরাসী মানিকগঞ্জের নামের ঋৎপত্তি ইতিহাস আজও রহস্যবৃত অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে সুফি দরবেশ মানিক শাহ সিংগাইর উপজেলার মানিকনগরে আসেন এবং খানকা প্রতিষ্ঠা করে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেনকারও মতে দূর্ধর্ষ পাঠান সর্দার মানিক ঢালীর নামানুসারে মানিকগঞ্জ নামের উৎপত্তি আবার কারো মতে, নবাব সিরাজ উদ-দৌলার বিশাবাস ঘাতক মানিক চাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তার নমানুসারে ১৮৪৫ সালের মে মাসে মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ হয় মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ সম্পর্কীত উল্লেখ্য তিনটি পৃথক স্থানীয় জনশ্রুতি এবং অনুমান নির্ভর এর কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি, তবে মানিক শাহের নামানুসারে মানিকগঞ্জ মহকুমার নামকরণ সম্পর্কীত জনশ্রুতি এবং ঘটনা প্রবাহ থেকে যে চিত্র পাওয়া যায় তাই সঠিক বলে ধরা হয়

. মুন্সীগঞ্জ জেলাঃ-
মুন্সিগঞ্জে প্রাচীন নাম ছিল ইদ্রাকপুর মোঘল শাসনামলে এই ইদ্রাকপুর গ্রামে মুন্সী হায়দার হোসেন নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন তিনি মোঘল শাসক দ্বারা ফৌজদার নিযুক্ত ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন জনহিতৈষী মুন্সী হায়দার হোসেনের নামে ইদ্রাকপুরের নাম হয় মুন্সীগঞ্জ কারো কারো মতে জমিদার এনায়েত আলী মুন্সীর নামানুসারে মুন্সীগঞ্জে নামকরণ করা হয়

১০. ময়মনসিংহ জেলাঃ-
ময়মনসিংহ জেলার নাম নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রচলিত আছে ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ জন্য অঞ্চলে একটি নুতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই থেকে নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি সলিম যুগের উৎস হিসেবে নাসিরাবাদ, নাম আজও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোথাও নাসিরাবাদ কথাটি উল্লেখ্য করা হচ্ছে না ১৭৭৯ সালে প্রকাশিত রেনেল এর ম্যাপে মোমেসিং নামটি ময়মনসিংহ অঞ্চলকেই নির্দেশ করে তার আগে আইন--আকবরীতে মিহমানশাহী এবং মনমনিসিংহ সকার বাজুহার পরগনা হিসেবে লিখিত আছে যা বর্তমান ময়মনসিংহকেই ধরা হয়


১১. নারায়ণগঞ্জ জেলাঃ-
১৭৬৬ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা বিকন লাল পান্ডে( বেণু ঠাকুর বা লক্ষীনায়ায়ণ ঠাকুর) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট থেকে অঞ্চলের মালিকানা গ্রহণ করে তিনি প্রভু নারায়ণের সেবার ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি উইলের মাধ্যমে শীতলক্ষা নদীর তীরে অবস্থিত মার্কেটকে দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করেন তাই পরবর্তীকালে স্থানের নাম হয় নারায়ণগঞ্জ

১২. নেত্রকোণা জেলাঃ-
নেত্রকোণার নামকরণ হয়েছে নাটেরকোণা নামক গ্রামের নাম থেকে

১৩. নরসিংদী জেলাঃ-
কথিত আছে, প্রাচীনকালে অঞ্চলটি নরসিংহ নামক একজন রাজার শাসনাধীন ছিল আনুমানিক পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে রাজা নরসিংহ প্রাচীন ব্যক্ষ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে নরসিংহপুর নামে একটি ছোট নগর স্থাপন করেছিলেনঅ তাঁরই নামানুসারে নরসিংদী নামটি আবির্ভূত হয় নরসিংহ নামের সাথে দী যুক্ত হয়ে নরসিংদী হয়েছে নরসিংহদী শব্দের পরিবর্তিত রূপই নরসিংদী

১৪. রাজবাড়ী জেলাঃ-
রাজা সূর্য্য কুমারের নামানুসারে রাজবাড়ীর নামকরণ করা হয় রাজা সূর্য্য কুমারের পিতামহ প্রভুরাম নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার রাজকর্মী থাকাকালীন কোন কারণে ইংরেজদের বিরাগভাজন হলে পলাশীর যুদ্ধের পর লক্ষীকোলে এস আত্মগোপন করেন পরে তাঁর পুত্র দ্বিগেন্দ্র প্রসাদ অঞ্চলে জমিদারী গড়ে তোলেন তাঁরই পুত্র রাজা সূর্য্য কুমার ১৮৮৫ সালে জনহিতকর কাজের জন্য রাজা উপাধি প্রাপ্ত হন ১৯৮৪ সালে ১মার্চ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়

১৫. শরীয়তপুর জেলাঃ-
বৃটিশ বিরোধী তথা ফরায়েজী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামানুসারে শরীয়তপুরের নামকরণ করা হয় ১৯৮৪ সালে ১লা মার্চ শরীয়তপুর জেলা শুভ উদ্বোধন করেন তৎকালীন তথ্য মন্ত্রী জনাব নাজিম উদ্দিন হাসিম

১৬. শেরপুর জেলাঃ-
বাংলার নবাবী আমলে গাজী বংশের শেষ জমিদার শের আলী গাজী দশ কাহনিয়া অঞ্চল দখল করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন এই শের আলী গাজীর নামে দশ কাহনিয়ার নাম হয় শেরপুর

১৭. টাঙ্গাইল জেলাঃ-
টাঙ্গাইলের নামকরণ বিষয রযেছে বহুজনশ্রুতি নানা মতামত ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত রেনেল তাঁর মানচিত্রে সম্পূর্ণ অঞ্চলকেই আটিয বলে দেখিযেছেন ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দের আগে টাঙ্গাইল নামে কোনো স্বতন্ত্র স্থানের পরিচয পাওয যায না টাঙ্গাইল নামটি পরিচিতি লাভ করে ১৫ নভেম্বর ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে মহকুমা সদর দপ্তর আটিয থেকে টাঙ্গাইলে স্থানান্তরের সময থেকে
টাঙ্গাইলের ইতিহাস প্রণেতা খন্দকার আব্দুর রহিম সাহেবের মতে, ইংরেজ আমলে এদেশের লোকেরা উচু শব্দের পরিবর্তে টান শব্দই ব্যবহার করতে অভ্যস্ত ছিল বেশি এখনো টাঙ্গাইল অঞ্চলে টান শব্দের প্রচলন আছে এই টানের সাথে আইল শব্দটি যুক্ত হয হযেছিল টান আইল আর সেই টান আইলটি রূপান্তরিত হযেছে টাঙ্গাইলে টাঙ্গাইলের নামকরণ নিয আরো বিভিন্নজনে বিভিন্ন সময নানা মত প্রকাশ করেছেন কারো কারো মতে, বৃটিশ শাসনামলে মোগল প্রশাসন কেন্দ্র আটিযাকে আশ্রয করে যখন এই অঞ্চল জম-জমাট হয উঠে সে সময ঘোডার গাডিছিল যাতাযাতের একমাত্র বাহন, যাকে বর্তমান টাঙ্গাইলের স্থানীয লোকেরা বলত টাঙ্গা বর্তমান শতকের মাঝামাঝি পর্যন্তও অঞ্চলের টাঙ্গা গাডির চলাচল স্থল পথে সর্বত্র আল শব্দটির কথা প্রসঙ্গে চলে আসে বর্তমান টাঙ্গাইল অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের নামের সাথে এই আল শব্দটির যোগ লক্ষ্য করা যায আল শব্দটির অর্থ সম্ভবত সীমা নির্দেশক যার স্থানীয উচ্চারণ আইল একটি স্থানকে যে সীমানা দিয বাঁধা হয তাকেই আইল বলা হয টাঙ্গাওযালাদের বাসস্থানের সীমানাকে টাঙ্গা+আইল এভাবে যোগ করে হযেছে টাঙ্গাইল এমতটি অনেকে পোষণ করেন আইল শব্দটি কৃষিজমির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই শব্দটি আঞ্চলিক ভাবে বহুল ব্যবহৃত শব্দ টাঙ্গাইলের ভূ-প্রকৃতি অনুসারে স্বাভাবিক ভাবে এর ভূমি উঁচু এবং ঢালু স্থানীযভাবে যার সমার্থক শব্দ হলো টান তাই এই ভূমিরূপের কারণেই অঞ্চলকে হযতো পূর্বে টান আইল বলা হতো যা পরিবর্তীত হয টাঙ্গাইল হযেছে

খুলনা বিভাগঃ-

. বাগেরহাট জেলাঃ-
‍‍
সুন্দরবনে বাঘের বাস
দাড়টানা ভৈরব পাশ
সবুজ শ্যামলে ভরা
নদী বাঁকে বসতো যে হাট
তার নাম বাগের হাট
এক সময় বাগেরহাটের নাম ছিল খলিফাতাবাদ বা প্রতিনিধির শহর খানজাহান আলী (রঃ) গৌড়ের সুলতানদের প্রতিনিধি হিসেবে অঞ্চল শাসন করতেন কেউ কেউ মনে করেন, বরিশালের শাসক আঘা বাকের এর নামানুসারে বাগেরহাট হয়েছে কেউবা বলেন, পাঠান জায়গীদার বাকির খাঁ এর নামানুসারে বাগেরহাট হয়েছে আবার কারো মতে, বাঘ শব্দ হতে বাগেরহাট নাম হয়েছে জনশ্রুতি আছে খানজাহান আলী (রঃ) এর একটি বাগ(বাগান, ফার্সী শব্দ) বা বাগিচা ছিল বাগ শব্দ হতে বাগেরহাট কাো মতে, নদীর বাঁকে হাট বসতো বিধায় বাঁকেরহাট বাঁকেরহাট হহতে বাগেরহাট

. চুয়াডাঙ্গা জেলাঃ-
চুযাডাঙ্গার নামকরণ সম্পর্কে কথিত আছে যে, এখানকার মল্লিক বংশের আদিপুরুষ চুঙ্গো মল্লিকের নামে জাযগার নাম চুযাডাঙ্গা হযেছে ১৭৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে চুঙ্গো মল্লিক তাঁর স্ত্রী, তিন ছেলে এক মেযেকে নিয ভারতের নদীয মুর্শিদাবাদ জেলার সীমানার ইটেবাডি- মহারাজপুর গ্রাম থেকে মাথাভাঙ্গা নদীপথে এখানে এস প্রথম বসতি গডেন ১৭৯৭ সালের এক রেকর্ডে জাযগার নাম চুঙ্গোডাঙ্গা উল্লেখ রযেছে ফারসি থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার সময উচ্চারণের বিকৃতির কারণে বর্তমান চুযাডাঙ্গা নামটা এসেছে চুযাডাঙ্গা নামকরণের আরো দুটি সম্ভাব্য কারণ প্রচলিত আছে চুয < চয চুযাডাঙ্গা হযেছে

. যশোর জেলাঃ-
১৭৮১ সালে যশোর একটি পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং এটিই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জেলা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বাধীন হওয জেলাটি যশোর যশোর, সমতটের একটা প্রাচীন জনপদ নামটি অতি পুরানো যশোর নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায় যশোর (জেসিনরে) আরবি শব্দ যার অর্থ সাকো অনুমান করা হয় কসবা নামটি পীর খানজাহান আলীর দেওয়া (১৩৯৮ খৃঃ) এককালে যশোরের সর্বত্র নদী নালায় পরিপূর্ণ ছিল পূর্বে নদী বা খালের উপর সাকো নির্মিত হতো খানজাহান আলী বাঁশের সাকো নির্মাণ করে ভৈরব নদী পার হয়ে মুড়লীতে আগমন করেন বলে জানা যায় এই বাঁশের সাকো থেকে যশোর নামের উৎপত্তি তবে এই মতে সমর্থকদের সংখ্যা খুবই কম ইরান আরব সীমান্তে একটি স্থানের নাম যশোর যার সাথে এই যশোরের কোন সম্পর্ক স্থাপন করা যায় না খানজাহান আলীর পূর্ব থেকেই এই যশোর নাম ছিল অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেন যে, প্রতাপদিত্যের পতনের পর চাঁচড়ার রাজাদের যশোরের রাজা বলা হত কেননা তারা যশোর রাজ প্রতাপাদিত্যের সম্পত্তির একাংশ পুরস্কার স্বরূপ অর্জন করেছিলেন এই মতও সঠিক বলে মনে হয় জে, ওয়েস্টল্যাণ্ড তাঁর যশোর প্রতিবেদনের ১৯৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, রাজা প্রতাপাদিত্য রায়ের আগে জেলা সদর কসবা মৌজার অর্ন্তভুক্ত ছিল বনগাঁ-যশোর পিচের রাস্তা ১৮৬৬-১৮৬৮ কালপর্বে তৈরী হয় যশোর-খুলনা ইতিহাসের ৭৬ পাতায় লেখা আছে প্রতাপাদিত্যের আগে লিখিত কোন পুস্তকে যশোর লেখা নাই সময়ের বিবর্তনে নামের পরিবর্তন স্বাভাবিক
https://web.facebook.com/shamimshihab
. ঝিনাইদহ জেলাঃ-
প্রাচীনকালে বর্তমান ঝিনাইদহের উত্তর-পশ্চিম দিকে নবগঙ্গা নদীর ধারে ঝিনুক কুড়ানো শ্রমিকের বসতি গড়ে ওঠে বলে জানা যায কলকাতা থেকে ব্যবসায়ীরা ঝিনুকের মুক্তা সঙগ্রহরের জন্য এখানে ঝিনুক কিনতে আসতো সে সময় ঝিনুক প্রাপ্তির স্থানটিকে ঝিনুকদহ বলা হত অনেকের মতে ঝিনুককে আঞ্চলিক ভাষায় ঝিনেই বা ঝিনাই বলে দহ অর্থ বড় জলাশয়, দহ ফার্সী শব্দ যার অর্ত গ্রাম সেই অর্থে ঝিনুক দহ বলতে ঝিনুকের জলাশয় অথবা ঝিনুকের গ্রাম ঝিনুক এবং দহ থেকেই ঝিনুকদহ বা ঝিনেইদহ যা রূপান্তরিত হয়ে আজকের এই ঝিনাইদহ

. খুলনা জেলাঃ-
হযরত পীর খানজাহান আলীর (.) স্মৃতি বিজড়িত ভৈরব-রূপসা বিধৌত পৌর শহর খুলনার ইতিহাস নানাভাবে ঐতিহ্য মন্ডিত খুলনা নামকরণের উৎপত্তি সম্বন্ধে নানান মত রয়েছে সবচেয়ে বেশি আলোচিত মতগুলো হলো : মৌজা কিসমত খুলনা খুলনা খুলনা; ধনপতি সাওদাগরের দ্বিতীয় স্ত্রী খুল্লনার নামে নির্মিত খুল্লনেশ্বরী কালী মন্দির থেকে খুলনা; ১৭৬৬ সালে ফলমাউথ জাহাজের নাবিকদের উদ্ধারকৃত রেকর্ডে লিখিত Culnea শব্দ থেকে খুলনা ইংরেজ আমলের মানচিত্রে লিখিত Jessore-Culna শব্দ থেকে খুলনা,- কোনটি সত্য তা গবেষকরা নির্ধারণ করবেন

তথ্য সূত্রঃ-জেলা তথ্য বাতায়ন,বাংলা পিডিয়া, উইকিপিডিয়া, যশোর ইনফো, নেত্রকোণার আলো এবং বিভিন্ন সূত্র হতে প্রাপ্ত

Comments

Popular Posts

List of Postal Code/Zip Code of Bangladesh

Branch » Post Code Demra 1360 Sarulia 1361 Matuail 1362 Dhaka GPO 1000 Dhaka Main PO 1100 Wari TSO 1203 Gendaria TSO 1204 New Market TSO 1205 Dhaka CantonmentTSO 1206 Mohammadpur Housing 1207 Dhaka Politechnic 1208 Jigatala TSO 1209 Posta TSO 1211 Gulshan Model Town 1212 Banani TSO 1213 Basabo TSO 1214 Tejgaon TSO 1215 Shantinagr TSO 1217 Mirpur TSO 1218 KhilgaonTSO 1219 BangabhabanTSO 1222 DilkushaTSO 1223 Sangsad BhabanTSO 1225 KhilkhetTSO 1229 Uttara Model TwonTSO 1231 Dhania TSO 1232 Dhamrai 1350 Kamalpur 1351 Joypara 1330 Palamganj 1331 Narisha 1332 Keraniganj 1310 Dhaka Jute Mills 1311 Ati 1312 Kalatia 1313 Nawabganj 1320 Hasnabad 1321 Daudpur 1322 Agla 1323 Khalpar 1324 Churain 1325 Savar 1340 Dairy Farm 1341 Jahangirnagar Univer 1342 Saver P.A.T.C 1343 Savar Canttonment 1344 Shimulia 1345 ...

Mymensingh Railway Station Schedule

★ ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনের সময়সূচিঃ ১) ভোর ৪:৩৫- যমুনা এক্সপ্রেস(আন্তঃনগর) ২) ভোর০৫:৩০- ভাওয়াল এক্সপ্রেস ৩) সকাল ৭:৩৩- জামালপুর কমিউটার ৪) সকাল ৯: ১০- ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্...

হুমায়ুন আহমেদ - এর উক্তি সমূহ

১. পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার হচ্ছে ভালবাসা। ২. ভালোবাসা ও ঘৃনা দুটোই মানুষের চোখে লিখা থাকে। ৩. একজন সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে দেখা ও তাকে অসুন্দর হিসেবে আবিষ্কার করার মধ্যবর্তী স...